৩টি কবিতা । ভাষান্তর : বদরুজ্জামান আলমগীর
প্রকাশিত হয়েছে : 11 November 2023, 3:40 am, | ১২৩৫ বার পঠিত
মাহমুদ দারবিশ ।। নাজোয়ান দারবিশ ।। এলানা বেল
কাঁটাতারে, উচ্ছেদে,উৎখাতে, দেশান্তরে ভরা দুনিয়ায় মাহমুদ দারবিশ জন্মেছিলেন ৩ মার্চ ১৯৪১ সনে প্যালেস্টাইনের আলবিরওয়ায়; আর সীমানাডিঙানো অন্য দুনিয়ার ঠিকানায় পাড়ি জমান আগস্ট ৯, ২০০৮ -এ যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন, টেক্সাসে।
নাজোয়ান দারবিশ ১৯৭৮ সনে জেরুজালেমে জন্মছিলেন। তাঁকে এই সময়ের এক অনন্য কবি হিসাবে গণ্য করা হয়।
এলানা বেল ফিলিস্তিনি পরিবারে জন্মছিলেন লস এঞ্জেলেসে ১৯৭৭ সনে- বেল কবিতায় রাস্তার প্রতিরোধ লড়াইয়েও সরব।
অদ্ব্যর্থতায় দেখতে পাই- কবি-দের ইচ্ছা, কী এক নৈর্ব্যক্তিক বোধিসত্তায় ফেলে আসা শৈশব, যুদ্ধের পোঁচ, হাহাকার ও ক্ষরণের কালশিটে লেগে আছে সবগুলো কবিতার ছায়া আবছায়ার শরীরে।
জন্মভূমি
মাহমুদ দারবিশ
ইংরেজি তরজমা: ফেডি জোওডা
এই আমার জন্মভূমি
ঈশ্বরের কথার খুব কাছে আমার জন্মভূমির বাড়ি
তার মাথার উপর ঝোলানো মেঘের সামিয়ানা।
আমার এই ভূমি
যার কখনও লাগে না বর্ণনার বড়াই,
নেই-এর ভিতরে সে আছে সবটুকু।
ও আমার মাটি
তিলের বীজের সমান ছোট এক দানা
স্বর্গের দিগন্ত রেখা, লুকানো ফাটল।
আমার দেশ
বাজপাখির ধুলামলিন পাখা
আসমানী কিতাব, আর পবিত্র জখম।
আমার জমিন
আছে ভাঙা পাহাড়ের বেড়ের ভিতর
অপলক নিকট অতীতের গোপন শান।
আমার ভূভাগ
দাম দিয়ে কেনা যুদ্ধের বাজারে তৃষ্ণা
সমুন্নত রাখে মৃত্যুগ্রহণের পণ।
এভাবেই আমার জননী আগুনগলা পূর্ণিমা রাত।
হীরক দ্যুতি জ্বলে থাকে বুঝি
দূর বহুদূর তারা ঝিকমিক;
আগুনাভা শূন্যতায় নিঃসঙ্গ লাফায়-
আর আমরা ভিতরে দমবন্ধ ছটফট করি!
To Our land.
লিখি আমার ভূমি
নাজোয়ান দারবিশ
ইংরেজি ভাষান্তর : কারিম জেইমস আবু জাইদ
আমি লিখতে চাই জন্মভূমি
এমন শব্দের গাঁথুনি চাই
যেন শব্দরা নিজেই আমার ভূমি হয়ে ওঠে।
আমি যে রোমানদের বানানো স্থবির ভাস্কর্য
আরবরা যা বেমালুম ভুলে গ্যাছে।
দখলদার মনিবরা চুরি করেছে ভাঙা আমার হাত
তারা তা সাজিয়ে রেখেছে যাদুঘরের তকমায়।
আমার তাতে কিচ্ছু আসে যায় না
আমি এখনও লিখতে নাছোড় পরিত্যক্ত জন্মভূমি
এমন কোণা খামচি নেই যেখানে বলার কথা নেই
কেননা নির্বাক চাহনিই আমার গল্প।
I write the land.
তোমার গ্রাম
এলানা বেল
একটা গ্রাম পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে
তুমি হয়তো তা আমলে আনছো না
ভাবছো এ তোমার জন্মভিটা নয়
কিন্তু আসলে এটিও তোমার গ্রাম।
একটি শিশু যার বুকের ভিতরটা ভয়ে
শুকিয়ে কাঠ হয়ে গ্যাছে-
কালো কালো পাথর দুটি চোখে তোমার দিকে চায়
তুমি ডুবতে থাকো, সেঁধিয়ে যাও ফাটলে
কিন্তু তখনও তুমি কাঁদো না
হয়তো ভাবো- এ তোমার সন্তান নয়
জেনো আসলে সে তোমারই সন্তান।
যে গবাদিপশুরা, পাখপাখালি পালাতে পেরেছে
তারা দৌড়ে গ্যাছে দূর ঝোপঝাড় আড়ালে
আর যারা আটকে গ্যাছে যুদ্ধের ফাঁদে
তারা নৃশংস ক্ষুধায় তোলে পৃথিবীর আদি ওঙ্কার।
বাড়িগুলো উড়ে গ্যাছে, সবুজ গুল্ম লণ্ডভণ্ড সাবাড়
দাদার কবরখানিও চেনার জো নেই আর
কোন ফলক নেই, আছে কেবল একটি পরিত্যক্ত পাথর।
পুড়ে খাক হওয়া ওকের পাতাদের কে ঝেঁটিয়ে সরাবে
পারবে কী করতে তা কেহ-
যে পাতারা মর্মরে তেলাওয়াত করবে মৃতদের নাম
প্রত্যহ সুবেহ সাদেকে প্রার্থনায় মোড়াবে দেহ?
Your village.




